cplusbd

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রেমে ছ্যাকা খেয়ে 'মধু হই হই' গানটি সৃষ্টি করেছিলেন আবদুর রশিদ মাস্টার

1st Image

ফরহাদ সিকদার (২০১৯-০১-২৩ ০৫:৪৫:২২)

“মধু হই হই বিষ হাওয়াইলা” চট্টগ্রামের অতি জনপ্রিয় একটি গান। গানটি চট্টগ্রামের মানুষের কাছে যেমন জনপ্রিয়, তেমনি অন্যান্য ভাষাভাষী মানুষদের কাছেও এই গানের জনপ্রিয়তা অনেক।

তবে জনপ্রিয় এই গানটির আসল স্রষ্টা যিনি তাকে হয়ত অনেকেই চিনেন না। তিনি হলেন সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা আবদুর রশিদ মাস্টার। গানটি যার হাত ধরে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল তিনি হলেন চট্টগ্রামের আরেক কৃতি সন্তান সন্দীপন।

এই বিষয়ে তিনি সিপ্লাসকে বলেন। "২০০৪ সালে আমি রেনেসাঁ ব্যান্ডের ফয়সাল সিদ্দিকী ভাইয়ের মাধ্যমে মধু হই হই গানটি পেয়েছিলাম। গানটি সেন্টমার্টিনের আবদুর রশিদের গাওয়া। তিনি একজন জেলে ছিলেন।"

মধু হই হই গানের এই স্রষ্টা সিপ্লাস টিভির স্টুডিওতে এসেছিলেন। আবদুর রশিদকে নিয়ে পুরো একটি গানের অনুষ্ঠান খুব শিগগির সম্প্রচারিত হবে সিপ্লাস টিভিতে। 

যেখানে সিপ্লাস টিভির সম্পাদক আলমগীর অপুর সাথে কথা হয়েছিল নারিকেল জিঞ্জিরার মাটির মানুষ আবদুর রশিদ মাস্টারের সাথে। যার কিছু অংশ এইখানে তুলে ধরা হল।

আলমগীর অপু: আপনি কত বছর ধরে গান করছেন?

আবদুর রশিদ: আমি গান করছি প্রায় ২২ বছর ধরে।

আলমগীর অপু: মধু হই হই গানটি আপনি কত সালে লেখেছিলেন বা গেয়েছিলেন?

আবদুর রশিদ: আমি গানটি লেখেছিলাম ২০০০ সালেরও আগে।

আলমগীর অপু: গানটি লেখা বা গাওয়ার পিছনে কোন কারণ আছে কিনা?  

আবদুর রশিদ: জ্বী আছে, ১৪ বছর বয়সে মিনারা নামক এক মেয়ের সাথে আমার প্রেম ছিল। পরে সে আমাকে প্রত্যাখ্যান করে অন্য একজনকে বিয়ে করে পেলে। এর পরপরই আমি গানটা বানাই।

আলমগীর অপু: পরে তো গানটি অনেকেই গেয়েছে। সন্দীপন গেয়েছে তাছাড়া আরো অনেকেই গেয়েছে। আপনার কেমন লাগে।?

আবদুর রশিদ: গান আমার মনের খোরাক, আমার নিজের গান অন্য কেউ গাইলে আমার ভাল লাগে। তবে সবার প্রতি অনুরোধ গানের কথা এবং সুর যেন হুবহু রেখে গায়।

আলমগীর অপু: তার মানে প্রেমে ছ্যাকা খাওয়ার পর থেকেই আপনার গানের জগতে প্রবেশ করা?

আবদুর রশিদ: জ্বী অনেকটা ঐরকমই তবে আমি ছোট বেলা থেকেই গান করতাম নিজে নিজে। ছ্যাকা খাওয়ার পর থেকে গানের প্রতি আরো বেশি ঝুঁকে পড়েছি। 

আলমগীর অপু: গানের পাশাপাশি আর কি করেন? মানে আপনার উপার্জনের উৎস কি একমাত্র গান ?

আবদুর রশিদ: না আমি মুলত জেলে, যখন সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভীড় থাকে তখন তাদেরকে গান শুনাই। অনেকেই আমাকে গান গাওয়ার জন্য ডেকে নিয়ে যায়। ঐখান থেকে যা ইনকাম হয় তা দিয়ে সংসার চলে যায়। তাছাড়া যখন পর্যটকদের ভীড় থাকেনা তখন মাছ ধরে, মাছ বিক্রি করি। 

আলমগীর অপু: আচ্ছা, সেন্টমার্টিনে গিয়ে যদি কেউ আপনার গান শুনতে চায় আপনাকে কিভাবে পাবে?

আবদুর রশিদ: সেন্টমার্টিনে আমাকে সবাই চিনে, ঐখানে গিয়ে আবদুর রশিদ মাস্টারের কথা বললে যে কেউ চিনিয়ে দেবে। 

আলমগীর অপু: আপনার ভবিষ্যত চিন্তাভাবনা কি?

আবদুর রশিদ: আমি ভাই মাটির মানুষ, সেন্টমার্টিনেই জন্মেছি, ঐখানেই বড় হয়েছি । উপর ওয়ালা যা চায় তা হবে, আমার অত বড় কোন চিন্তা ভাবনা নাই। 

আলমগীর অপুঃ ঠিক আছে ভাল থাকবেন, আপনার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।