cplusbd

নিউজটি শেয়ার করুন

শঙ্খ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে শত বসতঘর

1st Image

চন্দনাইশ প্রতিনিধি (২০১৯-০৭-১১ ১২:৪২:৩৭)

ভারী বর্ষণে শঙ্খ নদীর পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করছে টানা ছয় দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে শঙ্খ নদীর পানি। ফলে বর্ষাকালীন সবজিসহ মৎস্য প্রকল্প ডুবে মাছ ভেসে যাওয়ায় প্রায় কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলসমূহের বিস্তীর্ণ বর্ষাকালীন সবজির ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। কিছুকিছু এলাকায় আউশ ধানের বীজতলাও তলিয়ে গেছে পানির নিচে। ফলে নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় মৎস্য প্রকল্প ডুবে মাছ ভেসে গিয়ে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কয়েকদিন যাবত বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় শঙ্খ নদীর পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নদীর তীরবর্তী দোহাজারী পৌরসভা, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, আমিলাইশ, বৈলতলী, বরমা, বরকল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত মানুষ ভয়াবহ বন্যার আতঙ্কে রয়েছেন।

এছাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ সড়কগুলো ডুবে ইতোমধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।  বর্ষা মৌসুমের বিভিন্ন সবজি ক্ষেত। 

সরেজমিন পরিদর্শনে দোহাজারী পৌরসভায় শঙ্খ নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় নদীর পানি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। স্রোতের তীব্রতায় নির্মাণাধীন দোহাজারী রেলসেতুর পূর্ব পাশে বেশ কিছু বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ সময় বেশকিছু ঘর থেকে মালামাল সরাতে দেখা যায় স্থানীয়দের। এছাড়া ৩৩ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একটি খুঁটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে সেটি নদীতে পড়ে যেতে পারে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ দিকে সকালে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভাণ্ডারখ্যাত শঙ্খচরে গিয়ে দেখা যায়, চরে উৎপাদিত বর্ষাকালীন সবজি মূলা, বেগুন, ঢেঁড়শ, করলা, ঝিঙ্গা, বরবটি, চিচিংগা, লাউ, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন বর্ষাকালীন সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

শঙ্খ চরের কৃষক কিল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা জসিম ও জামাল বলেন, নিম্নাঞ্চলের সবজি ক্ষেতগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেলেও উপরের ক্ষেতগুলোতে এখনো পানি পৌঁছায়নি। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উপরের ক্ষেতগুলোও ডুবে যাবে বলে জানান তারা। ভারী বর্ষণে বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে শঙ্খ নদীর পানি।

চাগাচর এলাকার ফয়েজ আহম্মদ বলেন, দুই বিঘা আয়তনের তার ৫টি মৎস্য প্রকল্প ডুবে গিয়ে প্রায় চার লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এ দিকে দোহাজারী পৌরসভার উল্লাপাড়া, সরকারপাড়া, চাগাচর, জামিজুরী, ঈদপুকুরিয়া,খানবাড়ি, দিয়াকুল, রায়জোয়ারা, কিল্লাপাড়া, পূর্ব দোহাজারী, লোকমানপাড়া, চাগাচর নতুনপাড়া এলাকায় কয়েকশ পরিবার ইতোমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এছাড়া প্রবল বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চন্দনাইশ পৌরসভা, হাশিমপুর, জোয়ারা, কাঞ্চনাবাদ, বরকল, বরমা, ধোপাছড়ি, ছামাছড়ি, চিড়িংঘাটা, শামুকছড়ির বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ