cplusbd

নিউজটি শেয়ার করুন

অশ্রুজলে নিহতদের স্মরণ করলো স্বজনরা

1st Image

মিরসরাই প্রতিনিধি (২০১৯-০৭-১১ ১০:৩৬:৫৯)

ফুল আর অশ্রুজলে মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে নিহত স্কুল শিক্ষার্থীদের স্মরণ করলো স্বজন, সহপাঠি, রাজনীতিবিদ ও মিরসরাইয়ের সর্বস্তরের মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) নিহতদের স্মরণে কোরআনখানি, দোয়া, কালোবেজ ধারণ, নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ আবেগ ও দূর্ঘটনাস্থলে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ অন্তিমে পুষ্পস্তবক অর্পন, শোক র‌্যালী, স্মরণ সভার মধ্য দিয়ে পালিত হলো মিরসরাই ট্র্যাজেডির ৮ম বার্ষিকী।

সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্মৃতি স্তম্ভ আবেগ ও অন্তিমে ফুল দিয়ে একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাবেক গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, নিহতদের স্বজনরা, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদ, মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, মিরসরাই প্রেসক্লাব, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বেলা ১১টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে স্বরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এম আলা উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাষ্টার কবির আহম্মদ নিজামীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন, উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য কাইয়ুম নিজামী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত আরা ফেন্সী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মিহির কান্তি নাথ, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবচার উদ্দিন, আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম নিজামী, আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন আরিফ, মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাষ্টার, উপজেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নুরুল গনি, ত্রান ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ দিদার, সহ-দপ্তর সম্পাদক তোফায়ের উল্লাহ চৌধুরী নাজমুল, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তানভির হোসেন তপু, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাশেল ইকবাল চৌধুরী।

আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘শোকের এ আট বছর সময়ে ঘটনার পট পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু হৃদয়বিদারক সেই ঘটনার ক্ষত এখনো শুকিয়ে যায়নি। কান পাতলেই শোনা যায় স্বজনহারা মানুষের কান্না।’

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১১ জুলাই সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্টের ফাইনার খেলা শেষে বাড়ি ফিরার সময় মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের দক্ষিণ সৈদালী এলাকায় ৭০-৮০ কিশোর বহনকারী একটি ট্রাক পাশের ডোবায় উল্টে যায়। যেখানে একসাথে ৩৮ জন ছাত্র ও এক অভিভাবক মারা যায়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৫ জনের মৃত্যু গুণতে হয়েছে। তন্মেধ্যে ৪৩ জনই শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৪ জন, প্রাইমারী স্কুলের ৪ জন, আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসার ২ জন, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের ২জন, একজন অভিবাবক ও দুইজন ফুটবলপ্রেমী মারা যায়। যেটি ইতিহাসের পাতায় মিরসরাই ট্র্যাজিডি হিসেবে স্থান করে নেয়।