cplusbd

নিউজটি শেয়ার করুন

কেয়ারটেকারকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত; বাড়ী মালিকের কথায় আসামী ধরেনি আকবর শাহ পুলিশ

1st Image

কামরুজ্জামান রনি (২০১৯-০৮-১৩ ০৬:০২:২০)

নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকায় নির্মানাধিন একটি বাড়ীর কেয়ারটেইকারকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে নেজাম নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালীর ছেলে। ঘটনার পর থানায় মামলা হলেও বাড়ীর মালিকের অনুরোধে আসামী ধরা থেকে বিরত আছে আকবর শাহ থানার পুলিশ৷

জানা গেছে গত ৩রা আগস্ট বাড়ী মালিকের সাথে নির্মানাধিন বাড়ির মালামাল সরবরাহ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়ীর কেয়ারটেকার সাদ্দামকে হাতুড়ি দিয়ে পেটায় স্থানীয় আনুর ছেলে নেজাম৷ এসময় কাঁচকাটার কলম হাতুড়ি দিয়ে ঠুকে সাদ্দামের বাম পায়ে গেঁধে দেয়া হয় বলে জানিয়েছে সাদ্দাম।

মূলত বাড়ি নির্মানের মালামাল সরবরাহের কাজ সাদ্দামকে না দেয়ায় কয়েক মাস আগে থেকেই বাড়ির মালিকের সাথে সাদ্দামের পরিবারের বিরোধ চলছিলো৷

বাড়ির মালিক পাহাড়তলী মুরগীর খামার এলাকায় এপার্টমেন্টে বসবাস করে৷ আর সাদ্দাম বাড়ী মালিকের একটি সেমিপাকা ঘরে পরিবারের সাথে বসবাস করে৷ ৩রা আগস্ট পাশের দোকান থেকে মালামাল কিনতে গেছে আকষ্মিক সাদ্দাম হাতুড়ী দিয়ে তাকে পেটাতে থাকে। একসময় নেজাম তার হাতে থাকা গ্লাস কাটার কলমের মতন একটি কাঠি সাদ্দামের বাম পায়ে হাতুড়ির সাহায্যে গেঁথে দেয় বলে জানায় সাদ্দাম৷

ঘটনার পর বাড়ী মালিক মাসুদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে সাদ্দামের মা নিজে বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন৷ কিন্তু মামলাটি থানায় রেকর্ড করার পর আসামী পক্ষের সাথে বাড়ীর মালিক মাসুদুর রহমান গোপনে রফা হয়৷ যার প্রেক্ষিতে সাদ্দামকে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় বাড়ীর মালিক চাকুরী চ্যুত করে সাদ্দামকে।

সিপ্লাস প্রতিবেদককে কান্না জড়িত কন্ঠে সাদ্দাম জানান, আমার কি দোষ ? মালিকের বাড়িতে কাজ করি এই অপরাধে আমাকে হাতুড়ি দিয়ে পেটালো৷ মালিক নিজে টাইপ করে আমার মাকে দিয়ে মামলা করালো৷ আর নিজের জায়গা সম্পত্তির স্বার্থে আজ আমাকে চাকুরী থেকে বের করে দিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে চাপ দিচ্ছে।

সন্তানকে এভাবে নির্যাতনের অভিযোগে ৫ই আগস্ট আকবর শাহ থানায় মামলা করে যুবকের মা৷ কিন্তু আজ অব্দি পুলিশের দেখা পায়নি বলে জানান মামলার বাদি।

 এই ব্যাপারে বাড়ির মালিকের একজন মাসুদুর রহমানের বক্তব্য জানতে পশ্চিম খুলশী তার ফ্ল্যাটে গেলেও রিসিপশন থেকে যোগাযোগ করা হলেও অপর প্রান্ত থেকে তিনি নেই বলে জানান৷ পরে টেলিফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আসামী পক্ষের সাথে তার সমযোথার বিষয়টি স্বীকার করেছে৷ কিন্তু কেন কেয়ারটেকার সাদ্দামকে চাকুরীচ্যুত করেছেন এই বিষয়ে সদোত্তর দিতে পারেনি বাড়ীর মালিক মাসুদুর রহমান৷

আকবর শাহ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমাম সিপ্লাসকে জানিয়েছেন মামলা দায়েরের পর বাড়ীর মালিক মাসুদ সাহেব নিজে থানায় এসে জানিয়ে গেছেন বিষয়টি স্থানীয়রা মিলে মিমাংসা করে দিয়েছে৷ আসামীকে গ্রেফতার না করতে বাড়ীর মালিক অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান থানার ওসি৷ তবে আসামির সাথে কথিত সমযোথার ব্যাপারে মামলার বাদি লিখিত বা মৌখিক ভাবে থানায় কিছু জানায়নি বলেও স্বীকার করেন ওসি৷

বিজ্ঞ আইনজীবিদের মতে মামলা গ্রহনের পর কারো মৌখিক কথায় আসামী ধরা থেকে বিরত থাকার কোন বিধান নেই৷ বিষয়টি যদি সমযোথা হয় সেটা আদালতের মাধ্যমেই এফিডেফিডের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়৷ যদি থানার ওসি বাড়ির মালিকের কথায় আসামীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত থাকে সেই ক্ষেত্রে তিনি অবশ্যই গাফিলতি করেছেন।